সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৮-০৬-২০২৬ ০২:২১:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৬-২০২৬ ০৩:২৪:২৮ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা, নৈতিকতা এবং শৃঙ্খলাবোধকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় একটি দক্ষ, আধুনিক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই। আর সেই বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদানের মূল দায়িত্ব সেনা কর্মকর্তাদের ওপরই বর্তায়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, দক্ষ, মেধাবী ও আধুনিক নেতৃত্বগুণসম্পন্ন সেনা কর্মকর্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আনুগত্য, শৃঙ্খলা, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যবোধের মাধ্যমে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
তিনি বলেন, ‘চির উন্নত মম শির’ মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএমএ পরিকল্পিত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। এ প্রতিষ্ঠানের অবদানের জন্য সেনাবাহিনী গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।
পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। তিনি জানান, অফিসার ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম নেতৃত্ব গড়ে তুলতে বিএমএতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ চালু করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যাটালিয়ন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি এটি প্রশিক্ষণরত ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি আরও বিকশিত করতে সহায়তা করবে।
সেনাপ্রধান নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী ক্যাডেট রয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনের চারজন এবং তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও মালদ্বীপের একজন করে মোট সাতজন বিদেশি ক্যাডেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন।
এবারের কোর্সে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। অন্যদিকে, তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর বিদেশি ক্যাডেটদের মধ্যে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। পরে তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকরা নবীন কর্মকর্তাদের র্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।
কুচকাওয়াজে সংসদ সদস্য, দেশি-বিদেশি সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের পর সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে নবগঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। এ সময় তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স